হল ছেড়ে মসজিদে ঘুমাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম


হল ছেড়ে মসজিদে ঘুমাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। ছবি: আরটিভি

আবাসিক হলে রুমমেট কর্তৃক রাত জেগে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট, বাইরে থেকে বন্ধু এনে আড্ডা দেওয়া এবং হুমকিসহ মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বিছানাপত্র নিয়ে মসজিদে অবস্থান করছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী হলেন আইন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। তিনি বিভাগের ক্লাস টপার (দ্বিতীয় স্থান অধিকারী) বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে তার দুই রুমমেট, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ২০২০–২১ ও ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাওন ও মেহেদীর বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা গেছে, শহীদ আনাস হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে চারজন আবাসিক শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের মধ্যে একজন ফার্মেসি বিভাগের, একজন আইন বিভাগের (ভুক্তভোগী) এবং অপর দুইজন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী জুনিয়র শিক্ষার্থী গত এক বছর ধরে ওই কক্ষে অবস্থান করে আসছিলেন। তিনি ও অন্য একজন শিক্ষার্থী রাত ১২টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সারারাত জেগে থেকে ফজরের পর ঘুমান। রুমে লাইট জ্বালিয়ে রাখা, উচ্চস্বরে আড্ডা দেওয়া এবং সিনিয়রিটি দেখানোর কারণে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছিলেন তিনি। সম্প্রতি একই ব্লকের পাশের কক্ষের সিনিয়ররা বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও অভিযুক্তরা একই অবস্থানে অনড় রয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই রাত ২টার দিকে বিছানাপত্র নিয়ে হলের মসজিদে চলে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে মসজিদেই অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি হলে বৈধ সিট পাওয়ার পর থেকেই রুমমেটরা আমাকে মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। আমার বিভাগে সকাল ৯টা থেকে সারাদিন ক্লাস ও পরীক্ষা থাকে। তাই সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হয়। তিনি কারণে রাত ১২টার আগেই ঘুমাতে হয়। তারা সারারাত জেগে থাকে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু লাইট জ্বালিয়ে রাখা, রাত জেগে উচ্চস্বরে আড্ডা দেওয়া এবং অনুরোধ করলে উল্টো হুমকি দেওয়ায় মানসিক যন্ত্রণায় পড়ে তিন দিন আগে রুম ছেড়ে বের হয়ে গেছি। পাশের কক্ষের বড় ভাইয়েরা বিষয়টি সমাধান করে দিলেও তারা কোনো নিয়ম মানে না। 

উল্টো হুমকি দিয়ে বলে, আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছিস? থাকতে না পারলে তুই চলে যা। বাধ্য হয়ে মসজিদে অবস্থান করছি। শনিবার প্রভোস্ট স্যারকে লিখিত অভিযোগ দেব। তাতেও যদি প্রতিকার না পাই, তাহলে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করব।

আরেক রুমমেট, ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমারও একই সমস্যা হয়। তবে আমি রুমের এক কোণায় থাকি বলে তুলনামূলক কম সমস্যা হয়েছে। জুনিয়র (ভুক্তভোগী) তাদের বিছানার কাছে থাকায় বেশি সমস্যায় পড়ে। ওরা রাত জেগে ফজরের পর ঘুমায়, এটা ঠিক। আমরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। এমনকি রুমমেটকে ব্যক্তিগত ল্যাম্প কিনে দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা নেয়নি। মাঝরাতে আড্ডা দিলে বাইরে দেওয়া যায়। রুমে সিনিয়র-জুনিয়র বলে কিছু নেই। কারও কষ্ট হচ্ছে কি না, তা বিবেচনা করাই মানবিকতা ও বিবেকবোধ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রুমমেট শাওন বলেন, ফজরের পর ঘুমাই—কথাটি অসত্য। আমরা রাত ২টা বা ৩টার মধ্যেই ঘুমিয়ে যাই। ওই ছেলের সাউন্ড ফোবিয়া আছে; কেউ হাঁটলেও তার ঘুম ভেঙে যায়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি শব্দ কমিয়ে রাখতে। একদিন রাত ২টার দিকে জরুরি একটি সিভি তৈরির জন্য লাইট জ্বালিয়েছিলাম। তিনি রাগ করে বন্ধুর রুমে থাকবে বলে বেরিয়ে যায়। আমরা তো জানতাম না, তিনি মসজিদে অবস্থান করছে। সিনিয়র হিসেবে তাকে আপন করে নিতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি কথা বলে না, সম্মানও করে না। এ নিয়ে একদিন হলের ব্লকে মিটিং হয়েছিল। সমাধানও করা হয়েছে। তারপরও কীভাবে অভিযোগ করল, জানি না। প্রভোস্ট স্যারকে বলেছিলাম, বিষয়টির একটা সমাধান করতে।

আরও পড়ুন

আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী বলেন, রাতে চায়ের কাপে চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করলে, লুঙ্গি পরে হাঁটলে কিংবা ল্যাপটপ চালালেও তার সমস্যা হয়। কাজ না থাকলে রাত ১২টার মধ্যেই লাইট বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সামান্য বিষয়গুলো অভিযোগের পর্যায়ে পড়ে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের বলেন, তিনি বাইরে থাকছে—এ বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা আজ ভুক্তভোগী আমাকে জানিয়েছে। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে শনিবার অফিস চলাকালে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission